দেশ পলিটেকনিক কলেজ (DPC)-এর পটভূমি
প্রতিষ্ঠার ইতিহাস
দেশ পলিটেকনিক কলেজ (DPC) ২০০৪ সালে একদল সমাজহিতৈষী ব্যক্তির যৌথ উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত হয়। সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর দক্ষতা উন্নয়ন ও কারিগরি শিক্ষার মাধ্যমে তাদের আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নয়ন করাই ছিল প্রতিষ্ঠানটি প্রতিষ্ঠার অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।
প্রতিষ্ঠার পর থেকে DPC চাহিদাভিত্তিক ও কর্মদক্ষতামুখী শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তরুণদের, বিশেষ করে সুবিধাবঞ্চিত ও পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীকে, বর্তমান শ্রমবাজারের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কর্মমুখী দক্ষতা অর্জনে সহায়তা করে আসছে।
দক্ষতা উন্নয়ন ও স্বল্পমেয়াদি প্রশিক্ষণ
DPC মূলত চাহিদাভিত্তিক ও কর্মদক্ষতামুখী স্বল্পমেয়াদি প্রশিক্ষণ কোর্স পরিচালনা করে। এসব প্রশিক্ষণের মাধ্যমে প্রশিক্ষণার্থীদের দ্রুত কর্মসংস্থান ও আয়-উপার্জনের সুযোগ তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবহারিক দক্ষতা প্রদান করা হয়।
DPC-এর পরিচালিত প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—
কেয়ারগিভিং (Caregiving)
বিউটিফিকেশন (Beautification)
ফুড অ্যান্ড বেভারেজ প্রোডাকশন ও সার্ভিস
ফ্যাশন ডিজাইন অ্যান্ড প্রোডাক্ট ডেভেলপমেন্ট
ডিজিটাল মার্কেটিং ফর ফ্রিল্যান্সিং
ওয়েব ডিজাইন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট
গ্রাফিক্স ডিজাইন ফর ফ্রিল্যান্সিং
কম্পিউটার অপারেশন
সেলাই মেশিন অপারেশন (Knit & Woven)
ইলেকট্রিক্যাল ইনস্টলেশন অ্যান্ড মেইনটেন্যান্স (EIM)
মেসন
প্লাম্বিং অ্যান্ড পাইপ ফিটিং
টাইলস সেটিং
CBT&A Methodology (Trainer & Assessor)
কর্মক্ষেত্রের জন্য ইংরেজি (English for Work)
উদ্যোক্তা উন্নয়ন (Entrepreneurship Development)
প্রশিক্ষণ-পরবর্তী সহায়তা
প্রশিক্ষণের পাশাপাশি DPC প্রশিক্ষণার্থীদের কর্মসংস্থান ও আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরিতে বিভিন্ন প্রশিক্ষণ-পরবর্তী সহায়তা প্রদান করে থাকে। এর মধ্যে রয়েছে—
চাকরি প্রদান ও নিয়োগদাতার সঙ্গে সংযোগ স্থাপন
ক্যারিয়ার পরামর্শ ও গাইডেন্স
উদ্যোক্তা উন্নয়ন সহায়তা
আত্মকর্মসংস্থানের জন্য প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা
DPC-এর প্রশিক্ষণপ্রাপ্তদের মধ্যে প্রায় ৬৫%–৮৫% সরাসরি ও পরোক্ষভাবে কর্মসংস্থানের সুযোগ অর্জন করেছে। এই ফলাফল প্রতিষ্ঠানটির প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের কার্যকারিতা ও কর্মসংস্থানমুখী দৃষ্টিভঙ্গির একটি উল্লেখযোগ্য প্রতিফলন।
ডিপ্লোমা ইন ইঞ্জিনিয়ারিং শিক্ষা
দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণের পাশাপাশি দেশ পলিটেকনিক কলেজ (DPC) বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ড (BTEB)-এর অধীনে ডিপ্লোমা ইন ইঞ্জিনিয়ারিং শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করে।
বর্তমানে নিম্নলিখিত প্রযুক্তিতে ডিপ্লোমা শিক্ষা প্রদান করা হয়—
| ক্রম | প্রযুক্তি |
|---|---|
| ০১ | সিভিল টেকনোলজি |
| ০২ | কম্পিউটার টেকনোলজি |
| ০৩ | ইলেকট্রিক্যাল টেকনোলজি |
| ০৪ | টেক্সটাইল টেকনোলজি |
| ০৫ | মেকানিক্যাল টেকনোলজি |
| ০৬ | আর্কিটেকচার টেকনোলজি |
এসব ডিপ্লোমা প্রোগ্রামের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের তাত্ত্বিক জ্ঞান ও ব্যবহারিক দক্ষতার সমন্বিত শিক্ষা প্রদান করা হয়। এর ফলে শিক্ষার্থীরা দক্ষ মধ্যম-স্তরের কারিগরি পেশাজীবী হিসেবে নিজেদের গড়ে তোলার সুযোগ পায় এবং জাতীয় শিল্প ও কর্মবাজারে অবদান রাখার জন্য প্রস্তুত হয়।
প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের সম্প্রসারণ
দেশ টেকনিক্যাল ইনস্টিটিউট, বরিশাল প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের সম্প্রসারণ ও বাস্তবায়নে সহায়তা করে। এর মাধ্যমে দক্ষতা উন্নয়ন ও কারিগরি প্রশিক্ষণের সুযোগ আরও বিস্তৃত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তবে প্রশিক্ষণের মান বজায় রাখা, একাডেমিক উৎকর্ষ নিশ্চিত করা এবং সামগ্রিক কার্যক্রমের পরিকল্পনা ও ব্যবস্থাপনার মূল দায়িত্ব দেশ পলিটেকনিক কলেজ (DPC)-এর ওপর ন্যস্ত।
আমাদের অঙ্গীকার
প্রতিষ্ঠার পর থেকে DPC দক্ষতা উন্নয়ন, কারিগরি শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির মাধ্যমে যুবসমাজের ক্ষমতায়নে কাজ করে আসছে। চাহিদাভিত্তিক প্রশিক্ষণ, মানসম্মত কারিগরি শিক্ষা, শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সংযোগ এবং প্রশিক্ষণ-পরবর্তী সহায়তা—এই সমন্বিত কার্যক্রমের মাধ্যমে DPC দক্ষ ও আত্মনির্ভরশীল মানবসম্পদ তৈরিতে অবদান রাখছে।